অপরূপ গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি,
দেখতে ভারি মিষ্টি। কত যে ভালো লাগে,
বলে বোঝাতে পারবো না কাউকে। মন শুধু চায়
– সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায় দেশের এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে। বাংলার ভূসর্গ সিলেট,
চারিদিকে চা-বাগান আর চা-বাগান। পাহাড়ি
ঢালে বাক নেয়া চা-বাগানগুলি দেখলে, মন ভরিয়ে যায়,
প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
![]() |
ছবিঃ ইন্টারনেট |
বাংলার মেঘালয়
বান্দরবান, চারিদিকে
শুধু পাহাড় আর পাহাড়। মেঘের উপর বাড়ি, মানুষের চলাচল মেঘের উপরেই। ভোর সকালে
নিচ দিয়ে ছুটছে হাজারো মেঘ, উপরে পাহাড়ি আঁকাবাকা উঁচুনিচু পথে চলছে মানুষ। সবাই
ব্যাস্ত, কেউ প্রকৃতি
দেখা নিয়ে কেউবা আবার জুম ক্ষেতে নতুন ফসল তুলতে বা বুনতে।
বাংলার গ্রামীন পরিবেশ,
খুব ভোরেই পাখির ডাকে ভেঙে যায় মানুষের
ঘুম। মানুষ তার কর্ম নিয়ে ব্যাস্ত। খোলা মাঠে যেখানে প্রচুর ঘাস সেখানে গরু ছাগল
বাধা কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায়, হাস মুরগি ছাড়া। গরুর ডাক হাম্বা হাম্বা-ছাগল ম্যায়্যা
ম্যায়্যা, পাখপাখালির
কিচিরমিচির শব্দে মুখোরিতো থাকে গ্রাম বাংলা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সারাদিন মাতিয়ে
রাখে পুরো গ্রাম। তারা খেলে নানান সব খেলা – গোল্লাছুট,
দৌড় ঝাপ, বুড়ি-ছি ও প্রভৃতি।
গ্রাম-বাংলার
পরিবেশ দেখলে যেনো মনে পরে সত্যজিতের সেই গানটা;
আহা কি আনন্দ
আকাশে বাতাসে
গাছে গাছে পাখি ডাকে
সুভায়ও অনুরাগে
আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
মেঘ বৃষ্টির
বাংলাদেশ। এই মেঘ, এই বৃষ্টি। সারাদিন ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি। থামার কোনো নাম নেই। একটু থামতেই আবার ঝড়তে শুরু করে। সমস্ত গাছাগাছালি সবুজ হয়ে যায়। নদী, নালা,
খাল, বিল ভরিয়ে দেয়। বৃষ্টির সময়,
গ্রামের ছেলে-মেয়েরা বৃষ্টিতে গোসল করা
নিয়ে ব্যাস্ত। তারা ছুটে ভিজতে ভিজতে। গান গায় বিভূতিভূষণের সেই পথের পাঁচালির চার
চরণ;
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
ধান দিবো মেপে
নেবুর পাতা করম-চা
যা বৃষ্টি ঘরে যা
ছেলেরা ফুটবল
নিয়ে ব্যাস্ত। মাছ ধরা নিয়ে ব্যাস্ত। কাদাময় খোলা মাঠে বৃষ্টিতে ফুটবল খেলার মজাই আলাদা। পায়ে ব্যাথা পেলে কিংবা পা
ভাঙ্গলেই মায়ের বকনি, কাঁচা কনচি দিয়ে মাইর ও খেতে হয় বৈ কি। কিন্তু মায়ের মন,
পৃথিবীর মধ্যে সৃষ্ট,
শান্ত। সকালে বকলে দুপুরে অনুতপ্ত হয়।
ছেলের জন্য মায়া হয়। ভালোবাসার জন্ম নেয়। কিন্তু গ্রামীন পরিবেশে বড় হওয়া,
কখনো কি বন্দী থাকা যায়!!!