চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত মাধ্যম হলো বিমান। সড়কপথে যেখানে ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যায়, সেখানে আকাশপথে মাত্র ৪৫-৫০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায়। প্রতিদিন এই রুটে একাধিক ফ্লাইট চলাচল করে, তাই যাত্রীদের হাতে বেছে নেওয়ার মতো অনেক অপশন থাকে। এই আর্টিকেলে থাকছে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী, টিকিটের দাম, আর বুকিং সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য।
কোন কোন এয়ারলাইন্স এই রুটে চলাচল করে
চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে মূলত তিনটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করে:
- বাংলাদেশ বিমান (Biman Bangladesh Airlines) — রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা
- ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স (US-Bangla Airlines) — সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে এই রুটে
- নভোএয়ার (NovoAir) — নিয়মিত ফ্লাইট থাকে
প্রতিটি এয়ারলাইন্সই প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট চালায়, ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেকোনো সময় সুবিধামতো ফ্লাইট বেছে নেওয়া যায়।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিমানের সময়সূচী (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স)
এই রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই নিচে তাদের হালনাগাদ সময়সূচী দেওয়া হলো:
| ফ্লাইট নং | বহির্গমন (চট্টগ্রাম) | আগমন (ঢাকা) | সপ্তাহের দিন |
|---|---|---|---|
| BS102 | ০৯:১০ | ১০:০০ | প্রতিদিন |
| BS104 | ১১:২৫ | ১২:১৫ | প্রতিদিন |
| BS106 | ১৪:১৫ | ১৫:০৫ | প্রতিদিন |
| BS108 | ১৬:২৫ | ১৭:১৫ | প্রতিদিন |
| BS110 | ১৮:৪০ | ১৯:৩০ | প্রতিদিন |
| BS116 | ২০:৫৫ | ২১:৪৫ | প্রতিদিন |
| BS322 | ০৯:১৫ | ১০:১০ | সোম, বৃহস্পতি, শনি |
| BS334 | ০৮:১০ | ০৯:০৫ | বুধ |
| BS385 | ১৫:২৫ | ১৬:১৫ | রবি, বৃহস্পতি |
বাংলাদেশ বিমান আর নভোএয়ারও প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় একাধিক ফ্লাইট চালায়, তবে তাদের নির্দিষ্ট সময় মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে বলে বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা কোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
টিকিটের দাম কত পড়বে
| শ্রেণি | আনুমানিক ভাড়া |
|---|---|
| ইকোনমি (সর্বনিম্ন) | প্রায় ২,৮৫৮ টাকা থেকে শুরু |
| ইকোনমি (নিয়মিত সময়) | ৩,৫০০ – ৫,৫০০ টাকা |
| বিজনেস ক্লাস | ৮,০০০ – ১৫,০০০ টাকা |
ভাড়া নির্ভর করে কোন এয়ারলাইন্স, কোন সময়ের ফ্লাইট, আর কতদিন আগে বুকিং করা হচ্ছে তার ওপর। ঈদ, পূজা বা বড় ছুটির সময় ভাড়া বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তাই ওই সময়গুলোতে যতটা সম্ভব আগে টিকিট কাটাই ভালো।
ফ্লাইটের সময়কাল কত
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে মাত্র ৪৫-৫০ মিনিট। বিমানবন্দরে চেক-ইন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য অন্তত ১ ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, তাই মোট সময় ধরে চলা উচিত ২ থেকে আড়াই ঘণ্টার মতো।
নতুন পোস্ট : সিলেট টু শ্রীমঙ্গল ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা ২০২৫
টিকিট বুকিং কীভাবে করবেন
টিকিট কাটার বেশ কয়েকটি সহজ উপায় আছে:
- এয়ারলাইন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে সরাসরি বুকিং
- ShareTrip, Flyway, GoZayaan-এর মতো ট্রাভেল এজেন্সির ওয়েবসাইট থেকে
- এয়ারলাইন্সের হটলাইন নম্বরে কল করে
- বিমানবন্দর বা শহরের যেকোনো অনুমোদিত টিকিট কাউন্টার থেকে
অনলাইনে বুকিং করলে সাধারণত ডিসকাউন্ট বা অফার পাওয়া যায়, আর তুলনা করেও সবচেয়ে কম দামের টিকিট বেছে নেওয়া যায়।
ভ্রমণের আগে কিছু জরুরি তথ্য
- ইন-ফ্লাইট লাগেজের সীমা সাধারণত ২০ কেজি (ইকোনমি) — এয়ারলাইন্স ভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে
- অনলাইন চেক-ইন করা থাকলে বিমানবন্দরে সময় বাঁচে
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট সাথে রাখা বাধ্যতামূলক
- আবহাওয়া খারাপ থাকলে ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তাই আগে থেকে খোঁজ নেওয়া ভালো
কোন সময়ের ফ্লাইট বেছে নেবেন
সকালের ফ্লাইট (৭টা থেকে ১০টার মধ্যে) সাধারণত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য থাকে — কারণ দিনের শুরুতে আবহাওয়াজনিত বিলম্ব কম হয়। অফিস মিটিং বা জরুরি কাজে গেলে সকালের ফ্লাইট বেছে নেওয়াই ভালো। আবার যারা সারাদিন চট্টগ্রামে কাজ সেরে সন্ধ্যায় ফিরতে চান, তাদের জন্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টার মধ্যের ফ্লাইটগুলো উপযোগী।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বিমানে যেতে কত সময় লাগে?
সরাসরি ফ্লাইটে মাত্র ৪৫-৫০ মিনিট সময় লাগে।
সবচেয়ে কম দামে টিকিট কোথায় পাওয়া যায়?
বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সাইট তুলনা করে বুকিং দিলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যায়। যত আগে বুকিং করা যায়, ভাড়া তত কম থাকার সম্ভাবনা বেশি।
কোন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি?
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট রয়েছে — প্রতিদিন ৬টিরও বেশি।
লাস্ট মিনিটে টিকিট পাওয়া যায় কি?
সিট খালি থাকলে পাওয়া যায়, তবে দাম অনেক বেশি পড়তে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আগে থেকে বুকিং করাই ভালো।
ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে কী করণীয়?
এয়ারলাইন্সের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তারা পরবর্তী ফ্লাইটে রিবুক করে দেয় বা রিফান্ডের ব্যবস্থা করে। বুকিংয়ের সময় পাওয়া রেফারেন্স নম্বর সাথে রাখা জরুরি।
শেষ কথা
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বিমান এখনো সবচেয়ে ভালো অপশন — সময় বাঁচে, আরামও পাওয়া যায়। ইউএস-বাংলা, বাংলাদেশ বিমান আর নভোএয়ার — এই তিনটার মধ্যে থেকে নিজের বাজেট আর সময় অনুযায়ী বেছে নিলেই হয়। শুধু মনে রাখতে হবে, ছুটির মৌসুমে ভাড়া বেড়ে যায় আর সিটও দ্রুত ভরে যায়, তাই যতটা সম্ভব আগে থেকে টিকিট কেটে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে চাইলে বুকিংয়ের আগে একবার সময়সূচী আর ভাড়া যাচাই করে নেওয়াটা কখনোই ক্ষতির কিছু না।





