ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬: কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, ভাড়া ও টিকিটের পূর্ণ গাইড

MD Nazir Hossain

October 13, 2026

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী
✍️ হতে চান লেখক? উইব্লগবিডিতে এখন যেকেউ লিখতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন করুন

ঢাকা টু সিলেট ট্রেনের সময়সূচী এবং আপনি কোন ট্রেনে কতটা নিরাপদ ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সম্পর্কে এবং কত ভাড়া আর কখন কখন ট্রেন পাবেন। সবকিছু আপনি জানতে পারবেন আমি এখানে সবকিছু নিয়ে আলোচনা করেছি বাস্তব জীবন থেকে।

ঢাকা থেকে সিলেট যাবেন? পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী, উপবনসহ সব আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম ও ভ্রমণের কাজের টিপস এখানে পাবেন।

কেন সিলেটের পথে ট্রেনই অনেকের প্রথম পছন্দ?

ঢাকা থেকে সিলেট মানেই চায়ের বাগান, পাহাড়ি ঢেউ আর হাওরের খোলা আকাশ। এই পথে বাসে চড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হয়। ট্রেনে সেই ঝামেলা কম, জানালার পাশে বসে বাইরের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। তাই ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেনের জনপ্রিয়তা বছরের পর বছর ধরে ধরে রয়েছে।

তবে ট্রেনে যাওয়ার আগে একটা প্রশ্ন সবারই থাকে: কোন ট্রেন কখন ছাড়বে? এই লেখায় সেই উত্তরের পাশাপাশি ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম আর ভ্রমণের ছোটখাটো দরকারি তথ্যও পাবেন।

জরুরি কথা: বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচী প্রায়ই বদলায়। নিচের সময়গুলো সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও পরিচিত সূচির ভিত্তিতে দেওয়া। টিকিট কাটার আগে অবশ্যই railway.gov.bd বা রেল সেবা অ্যাপে সর্বশেষ সময় মিলিয়ে নিন।

ঢাকা-সিলেট রুটে কোন কোন ট্রেন চলে?

এই রুটে প্রধানত চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে: পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। সঙ্গে রয়েছে সুরমা মেইলের মতো সেবাও। উপবন এক্সপ্রেস, পারাবত, জয়ন্তিকা ও কালনী, এই চারটি আন্তঃনগর ট্রেন এই পথে চলে।

ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনের সময়সূচী

পূর্বাঞ্চল রেলের একটি সূচি অনুযায়ী পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়ে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে এবং উপবন এক্সপ্রেস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। কালনী এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে ঢাকা কমলাপুর থেকে ছাড়ার সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট, সিলেটে পৌঁছায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

ট্রেনের নামঢাকা থেকে ছাড়ার সময় (প্রায়)যাত্রাকাল (প্রায়)
পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯)সকাল ৬:২০৬ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৭ ঘণ্টা
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭)সকাল ১১:১৫৭ থেকে ৮ ঘণ্টা
কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৩)দুপুর ২:৫৫ থেকে ৩:০০৬ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯)রাত ৮:৩০প্রায় ৭ ঘণ্টা

সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সময়

ফিরতি পথে কালনী এক্সপ্রেস সিলেট থেকে ছাড়ে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে এবং ঢাকায় পৌঁছায় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে। উপবন এক্সপ্রেসের সিলেট ছাড়ার সময় সাধারণত রাতে, আর পারাবত ও জয়ন্তিকা ছাড়ে দিনের বেলায়। প্রতিটির সঠিক সময় রেল সেবা অ্যাপে দেখে নিন, কারণ এখানে সময় বদলের ঘটনা বেশি ঘটে।

কোন ট্রেনটি আপনার জন্য সেরা?

১. দ্রুত পৌঁছাতে চাইলে: পারাবত এক্সপ্রেস
এটি তুলনামূলকভাবে কম স্টেশনে থামে, তাই সময় কম লাগে। ভোরে ছেড়ে সকালের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে চাইলে এটি ভালো। দিনের কাজ সিলেটে সেরে ফেলার জন্য আদর্শ।

২. আরামে ও দিনের আলোয় যেতে চাইলে: জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস
সকালের নাস্তা সেরে বের হওয়া যায়। যাত্রার বেশিরভাগ সময় দিনের আলো থাকে, তাই বাইরের দৃশ্য দেখা যায়। পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই এটি বেছে নেন।

৩. অফিস শেষে রওনা দিতে চাইলে: কালনী এক্সপ্রেস
দুপুরের পর ছাড়ে, রাতে সিলেট পৌঁছায়। সকালে যাঁদের সময় হয় না, তাঁদের জন্য সুবিধাজনক।

৪. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যেতে চাইলে: উপবন এক্সপ্রেস
রাতে ছাড়ে, ভোরে সিলেট পৌঁছায়। হোটেলের এক রাতের খরচ বাঁচাতে চাইলে এটি কাজে লাগে।

ভাড়া কত?

ভাড়া নির্ভর করে আসনের শ্রেণির ওপর। সাধারণত তিনটি ক্লাস থাকে: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ও এসি বার্থ। একটি রেলভিত্তিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী পারাবত এক্সপ্রেসে সর্বনিম্ন ভাড়া শোভন চেয়ারে প্রায় ৩৪০ টাকা এবং সর্বোচ্চ এসি বার্থে প্রায় ৯৫০ টাকা। তবে ভাড়ায় ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে এবং সময়ে সময়ে হালনাগাদ হয়, তাই বুকিংয়ের সময় চূড়ান্ত অঙ্কটি দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

নতুন পোস্ট : সিলেট টু শ্রীমঙ্গল ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা ২০২৫

অনলাইনে টিকিট কাটার সহজ নিয়ম

টিকিট কাটতে আর স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই। ধাপগুলো এরকম:

  1. রেল সেবা অ্যাপ ডাউনলোড করুন, অথবা eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।
  2. মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
  3. যাত্রার স্টেশন (ঢাকা/কমলাপুর) ও গন্তব্য (সিলেট) নির্বাচন করুন।
  4. যাত্রার তারিখ ও পছন্দের ট্রেন বাছুন।
  5. আসন বা বার্থ নির্ধারণ করে যাত্রী তথ্য দিন।
  6. বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেমেন্ট করুন।
  7. টিকিটের এসএমএস বা পিডিএফ সংরক্ষণ করুন এবং যাত্রার সময় এনআইডি সঙ্গে রাখুন।

সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ঈদ, পূজা বা লম্বা ছুটির সময় টিকিট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তাই বিক্রি শুরুর প্রথম মিনিটেই চেষ্টা করুন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন অভিযানও চালিয়েছে, তাই দালালের কাছ থেকে না কিনে সরাসরি অফিশিয়াল মাধ্যমে কিনুন।

ট্রেনের বিলম্ব নিয়ে সত্যি কথাটা

ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন দেরিতে চলার ঘটনা নতুন নয়। একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ত্রুটিপূর্ণ রেললাইন, কুয়াশা ও চালকদের বিশ্রামের কারণে এই রুটে সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। আবার বন্যার সময়ও চলাচল বন্ধ থাকতে পারে। যেমন ২০২৪ সালে খোয়াই নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কিছুদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তাই জরুরি কাজ বা বিমান ধরার পরিকল্পনা থাকলে হাতে অন্তত দু-তিন ঘণ্টা বাড়তি সময় রাখুন।

যাত্রার আগে মনে রাখার কিছু কাজের টিপস

  • ট্রেন ছাড়ার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান। কমলাপুরে প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেতেই সময় লেগে যায়।
  • সাপ্তাহিক বন্ধের দিন যাচাই করুন। কিছু ট্রেনের সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে (যেমন কালনীর ক্ষেত্রে শুক্রবার, এমন তথ্য পাওয়া যায়), তবে এটি বদলাতে পারে।
  • ডান দিকের জানালার আসন নিন। শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজারের কাছাকাছি চায়ের বাগান ও সবুজ টিলা বেশি দেখা যায়।
  • খাবার ও পানি সঙ্গে রাখুন। ট্রেনের ক্যান্টিনে সব সময় সব কিছু পাওয়া যায় না।
  • মোবাইলে ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখুন, কারণ টিকিট দেখাতে হতে পারে।
  • দামি জিনিসপত্র নজরে রাখুন, বিশেষ করে রাতের ট্রেনে।

ট্রেন, বাস না বিমান: কোনটি আপনার জন্য ভালো?

বাসে সময় ও খরচ দুটোই বেশি অনিশ্চিত, কারণ জ্যাম আর রাস্তার অবস্থার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বিমানে সময় সবচেয়ে কম, কিন্তু খরচ বেশি এবং শহর থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার ঝক্কি আছে। ট্রেন এই দুইয়ের মাঝামাঝি: নির্ধারিত সময়, তুলনামূলক কম খরচ, আরামদায়ক আসন আর পথের সৌন্দর্য। একটু সময় হাতে নিয়ে বের হলে ট্রেনই সাধারণত সেরা সিদ্ধান্ত।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেনে কত সময় লাগে?
ট্রেনভেদে সাধারণত সাড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগে।

ঢাকা-সিলেট রুটে প্রতিদিন কয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে?
প্রধান আন্তঃনগর ট্রেন চারটি: পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী ও উপবন।

ঢাকার কোন স্টেশন থেকে সিলেটের ট্রেন ছাড়ে?
মূলত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে। কিছু ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনেও থামে।

সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন কোনটি?
পারাবত এক্সপ্রেসকে সাধারণত দ্রুততম ধরা হয়, কারণ এর স্টপেজ তুলনামূলক কম।

টিকিট কি স্টেশন থেকেও কেনা যায়?
হ্যাঁ, কাউন্টারে কেনা যায়। তবে অনলাইনে কাটাই সুবিধাজনক ও নিরাপদ।

শেষ কথা

ঢাকা থেকে সিলেটের ট্রেনযাত্রা শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া নয়, এটি একটি ছোট ভ্রমণ। সময়সূচী জেনে, আগে থেকে টিকিট কেটে এবং হাতে একটু বাড়তি সময় নিয়ে বের হলে পুরো যাত্রা অনেক স্বস্তির হয়। ট্রেন ছাড়ার আগে রেলওয়ের অফিশিয়াল সাইটে সর্বশেষ সূচি দেখে নিতে ভুলবেন না।

বই পড়ার অভ্যাস আমার সেই ছোট থেকেই, বই পড়তে ভালোবাসি আমি। এটা আমার নেশা। বই পড়ার মধ্য দিয়েই তো মানুষ আলোকিত হতে পারে। কাজেই আসুন বেশি বেশি বই পড়ি। বইয়ের আলোয় আলোকিত হই।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করার আগে খেয়াল রাখুন যেন ভদ্র ভাষা ব্যবহার করা হয়।