ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। তারপর আপনি ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেআপনাদের মাঝে স্থাপন করলাম। আশা করি আপনার যা যা প্রয়োজন এখানে সবকিছু পেয়ে যাবেন।
ভৈরব থেকে ঢাকা ট্রেনে যাওয়া কেন সবচেয়ে ভালো
ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে বাস আর ট্রেন দুটোই আছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আর ঢাকার যানজট পার হতে বাসে অনেক সময় চার-পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়। ট্রেনে লাগে মোটামুটি দুই ঘণ্টার কাছাকাছি। ভাড়া কম, বসার জায়গা আরামদায়ক, আর রাস্তার জ্যামে আটকে থাকার ভয় নেই। তাই চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী আর রোগী নিয়ে যাওয়া মানুষের কাছে ট্রেন এখনো প্রথম পছন্দ।
ভৈরব বাজার জংশন সম্পর্কে দরকারি কথা
ভৈরব বাজার জংশন ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বড় একটি সংযোগস্থল। কিশোরগঞ্জের দিকেও এখান থেকে লাইন গেছে। স্টেশনটি বেশ ব্যস্ত, তাই টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হলে হাতে সময় নিয়ে যাওয়া ভালো।
ভৈরব থেকে ঢাকার আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী
বিভিন্ন রেল-তথ্যের সাইট ঘেঁটে যে সূচি পাওয়া গেছে, তার সারসংক্ষেপ এই:
- এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮): সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় এবং সাপ্তাহিক বন্ধ নেই।
- এগারো সিন্ধুর গোধূলি (৭৫০): দুপুর ৩টায় ছেড়ে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়, বন্ধ বুধবার। কোনো কোনো সাইটে ছাড়ার সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিট বা ২টা ৪৫ মিনিট লেখা আছে।
- পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০): রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এটি সিলেট থেকে আসা ট্রেন। ভৈরবে এর পৌঁছানোর সময় রাত ৮টা ৩৭ থেকে ৮টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে ধরা হয়।
এ ছাড়া সিলেট বা কিশোরগঞ্জ প্রান্ত থেকে আসা কিছু ট্রেন ভৈরবে থামে। যেমন উপবন এক্সপ্রেসের ভৈরব ছাড়ার সময় ভোর ৪টা ৬ মিনিট এবং মহানগর গোধূলির সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিট বলে একটি সাইটে উল্লেখ আছে। তবে এই দুটির তথ্য সব সাইটে মেলে না।
ঢাকা থেকে ভৈরবের ফিরতি ট্রেন
ফেরার পরিকল্পনা থাকলে এই সূচিও কাজে লাগবে:
- পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯): সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে, ভৈরবে পৌঁছায় সকাল ৮টা ৩ মিনিটে।
- এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৭): সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ভৈরবে পৌঁছায় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে।
- উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২): দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ভৈরবে পৌঁছায়।
- এগারো সিন্ধুর গোধূলি (৭৪৯): সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পৌঁছায়।
- উপবন এক্সপ্রেস (৭৩৯): রাত ১০টায় ঢাকা ছেড়ে ১১টা ৪০ মিনিটে ভৈরব পৌঁছায়।
কমিউটার ট্রেনের খবর
আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট না পেলে কমিউটার ট্রেন ভরসা। একটি সূচিতে দেখা যায়, ভৈরব বাজার থেকে নরসিংদী হয়ে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ে এবং ফিরতি ট্রেন রাত ৯টা ১০ মিনিটে ভৈরবে ঢোকে। কমিউটারে সিট রিজার্ভ হয় না, আর স্টেশনে স্টেশনে থামে বলে সময়ও বেশি লাগে। তবু ভাড়া সবচেয়ে কম।
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন: যাওয়ার আগে অবশ্যই দেখুন
প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের সপ্তাহে একটি দিন বন্ধ থাকে। সাইটভেদে এই তথ্যেও গরমিল আছে। পারাবত এক্সপ্রেসের বন্ধ কোথাও সোমবার, কোথাও মঙ্গলবার লেখা। গোধূলির বন্ধ বুধবার। যাত্রার দিন ঠিক করার আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল সাইট বা অ্যাপে বন্ধের দিনটা মিলিয়ে নিন। না হলে স্টেশনে গিয়ে ট্রেন না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অনলাইনে টিকিট কাটবেন যেভাবে
বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট অনলাইনে কাটা যায় eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে অথবা Rail Sheba অ্যাপে। ধাপগুলো সহজ:
- প্রথমবার হলে মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- “ভৈরব বাজার” থেকে “ঢাকা (কমলাপুর)” নির্বাচন করে যাত্রার তারিখ দিন।
- পছন্দের ট্রেন, কোচ আর সিট বেছে নিন।
- বিকাশ, নগদ বা কার্ডে পেমেন্ট করুন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেমেন্ট না করলে সিট ছেড়ে দিতে হয়।
টিকিট কেনার সময়সীমা, প্রতি অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ কয়টি টিকিট মিলবে, এসব নিয়ম মাঝে মাঝে বদলায়। কাটার আগে সাইটের নির্দেশনা দেখে নিন।
নতুন পোস্ট : সিলেট টু শ্রীমঙ্গল ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা ২০২৫
ভাড়া সম্পর্কে যা জানা দরকার
ভাড়া নির্ভর করে সিটের ধরনের ওপর। শোভন, শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট আর এসি কেবিন, প্রতিটির ভাড়া আলাদা। এর সঙ্গে ভ্যাট আর সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। আমি এখানে নির্দিষ্ট অঙ্ক লিখছি না, কারণ সাইটভেদে অঙ্কে অমিল আছে আর ভাড়া সংশোধিত হতে পারে। টিকিট কাটার পাতায় যে অঙ্ক দেখাবে, সেটাই চূড়ান্ত।
স্টেশনে পৌঁছানো ও যাত্রার টিপস
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান।
- অনলাইন টিকিটের সফট কপি বা প্রিন্ট আর এনআইডি সঙ্গে রাখুন। ট্রেনে ওঠার সময় যাচাই হয়।
- ঈদ বা লম্বা ছুটির আগে টিকিটের চাপ প্রচণ্ড। সেসময় ঢাকাগামী ট্রেনে দেরি হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২০২৪ সালের ঈদের আগে এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ঢাকা থেকে দুই ঘণ্টারও বেশি দেরিতে ছেড়েছিল। তাই ঈদের ভিড়ে হাতে বাড়তি সময় রাখুন।
- রাতের ট্রেনে লাগেজ আর মোবাইল-মানিব্যাগ নিয়ে একটু সতর্ক থাকুন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভৈরব থেকে ঢাকা ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে?
আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণত দেড় থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা লাগে। যেমন এগারো সিন্ধুর গোধূলিতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট এবং প্রভাতীতে প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। কমিউটার ট্রেনে প্রতিটি স্টেশনে থামে বলে সময় বেশি লাগে।
ভৈরব থেকে ঢাকার প্রথম ও শেষ ট্রেন কোনটি?
একটি সাইটের তথ্য অনুযায়ী প্রথম ট্রেন ছাড়ে রাত ৩টা ৩৩ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে। তবে এই সময় সব সাইটে মেলে না, তাই যাওয়ার আগে অফিসিয়াল সূচি দেখে নিন।
ভৈরব থেকে ঢাকার আন্তঃনগর ট্রেন কয়টি?
প্রধানত তিনটি ট্রেনের নাম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়: এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮), এগারো সিন্ধুর গোধূলি (৭৫০) ও পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০)। এ ছাড়া সিলেট প্রান্ত থেকে আসা কিছু ট্রেন, যেমন উপবন এক্সপ্রেস, ভৈরবে থামে।
সকালে ঢাকা যাওয়ার সবচেয়ে ভালো ট্রেন কোনটি?
অফিস বা ক্লাসের জন্য এগারো সিন্ধুর প্রভাতী সুবিধাজনক। এটি সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় এবং সাপ্তাহিক বন্ধ নেই বলে অনেক সাইটে লেখা আছে। এর আগে ভোরে যেতে চাইলে কমিউটার ট্রেন দেখতে পারেন, যেটি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ভৈরব ছাড়ে বলে একটি সূচিতে উল্লেখ আছে।
কোন ট্রেন ঢাকার কোন স্টেশনে থামে?
আন্তঃনগর ট্রেন সাধারণত ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় এবং পথে বিমানবন্দর স্টেশনে থামে। যেমন পারাবত এক্সপ্রেস সম্পর্কে একটি সূত্রে বলা আছে, রাত ১০টা ১২ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশনে এবং রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। আপনার গন্তব্য উত্তরার দিকে হলে বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে সময় বাঁচাতে পারেন।
সাপ্তাহিক বন্ধের দিন কোন কোন ট্রেনের কবে?
বিভিন্ন সাইটে লেখা আছে, গোধূলির বন্ধ বুধবার, আর পারাবতের বন্ধ সোমবার বা মঙ্গলবার। পারাবতের ক্ষেত্রে সাইটগুলোর মধ্যে অমিল আছে। তাই টিকিট কাটার আগে অফিসিয়াল সাইট বা অ্যাপে বন্ধের দিন মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ।
ভৈরব থেকে ঢাকার ট্রেনের ভাড়া কত?
ভাড়া সিটের ধরনের ওপর নির্ভর করে, যেমন শোভন, শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা বা এসি সিট। সঙ্গে ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ যোগ হয়। সাইটভেদে অঙ্ক আলাদা পাওয়া যায় এবং ভাড়া বদলাতে পারে, তাই টিকিট কাটার সময় যে অঙ্ক দেখাবে সেটাই ধরুন।
অনলাইনে টিকিট কীভাবে কাটব?
eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইট বা Rail Sheba অ্যাপে মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। তারপর “ভৈরব বাজার” থেকে “ঢাকা” বেছে তারিখ, ট্রেন ও সিট নির্বাচন করে বিকাশ, নগদ বা কার্ডে পেমেন্ট করুন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেমেন্ট না করলে সিট ছেড়ে দিতে হয়।
স্টেশন থেকে সরাসরি টিকিট কেনা যায় কি?
হ্যাঁ, স্টেশনের কাউন্টারেও টিকিট মেলে। তবে জনপ্রিয় ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়, বিশেষ করে ঈদ ও ছুটির আগে। তাই সম্ভব হলে আগেভাগে অনলাইনে কেটে রাখা ভালো।
টিকিট না পেলে কী করব?
কমিউটার ট্রেনে ওঠা যায়, কারণ এতে সিট রিজার্ভ করতে হয় না। আন্তঃনগর ট্রেনে আসন না মিললে পরের দিনের বা অন্য সময়ের ট্রেন দেখুন। সবশেষে বিকল্প হিসেবে বাসও আছে, তবে যানজটের কারণে সময় বেশি লাগে।
ট্রেন দেরি করলে কী করা উচিত?
ইঞ্জিন বিকল বা লাইনের সমস্যায় দেরি হতে পারে। যেমন ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কম থাকায় একটি ট্রেন ভৈরব রেলসেতুতে আটকে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি করেছিল। জরুরি কাজ, যেমন ফ্লাইট বা পরীক্ষা, থাকলে হাতে অন্তত এক-দুই ঘণ্টা বাড়তি সময় রাখুন।
ট্রেনের সর্বশেষ সময়সূচী কোথায় পাব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd, Rail Sheba অ্যাপ বা স্টেশনের তথ্যকেন্দ্র থেকে সর্বশেষ সময় জানা যায়। বিভিন্ন ব্লগ ও তথ্যের সাইটে সময়ের ছোটখাটো পার্থক্য থাকে, তাই এগুলোকে শুধু ধারণা হিসেবে নিন।
দেরি ও বিঘ্নের সম্ভাবনা: শেষ কথা
রেল চলাচল সব সময় ঘড়ির কাঁটা ধরে চলে না। ইঞ্জিনের সমস্যা, লাইনের কাজ বা অন্য কোনো কারণে ট্রেন দেরি করতে পারে। যেমন ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কম থাকায় ভৈরব রেলসেতুতে উঠতে না পেরে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিল। এমন ঘটনা সব সময় হয় না, কিন্তু জরুরি কাজ থাকলে, যেমন ফ্লাইট বা পরীক্ষা, বাড়তি সময় হাতে রেখে বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সবশেষে একটা কথা: এই লেখার সময়সূচী একাধিক রেল-তথ্যের সাইট থেকে নেওয়া। সেগুলোর মধ্যে ছোটখাটো অমিল আছে, আর বাংলাদেশ রেলওয়ে সময়ে সময়ে সূচি বদলায়। তাই যাত্রার আগে eticket.railway.gov.bd, Rail Sheba অ্যাপ বা স্টেশনের তথ্যকেন্দ্র থেকে সর্বশেষ সময় নিশ্চিত করে নিন।





